Skip to main content

Posts

Showing posts from December, 2020

ফোন কল

          সকাল হতে না হতে বাড়ির পিছনের বাগানে সবে লাগানো বেগুনের চারাগুলোর চারপাশের মাটীটা একটু আলগা করে দিচ্ছিল আবদুল। এই বাগান করা দিয়েই দিন শুরু হয়। ক দবছর আগেও এই সময়টা পাওয়া যেত না। সকাল হতে না হতেই গ্রামের মানুষের ঢল নামতো এই ছোট্ট বাড়িটায়।              নামবে নাই বা কেন বলো, তিন তিনবারের এলাকার বিধায়ক সে। কম কথা তো নয়। মানুষের বিপদে আপদে ছুটে বেড়ায় সে। গ্রামের পথে যেতে যেতে এলাকার মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে তার দাওয়ায় বসে পড়ে তাদের সঙ্গে সুখ দুঃখের কথা বলে। এক একদিন তো তাকে শুনতে হয়েছে, এবার নিয়ে তো তিনবার এমএল এ হলে এবার বাড়িটা দোতলা করো।          প্রাণী তো তিনটে। ছেলে সদরে কলেজে পড়ে। আর আমি তো বাইরে বাইরে থাকি।বয়েসও হচ্ছে। ওসব কি হবে। বলে ওঠে আবদুল মতিন।         লোকে কি বলে জানো, পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি দেকো, নিদেন মেম্বারের বাড়ি দেকো আর তোমার বাড়ির দিকে তাকালে বোঝার উপায় নাই তুমি তিনবারের এম এল এ। কদিনে যেন সবাই ফুলে ফেঁপে উঠলো। আর তুমি.. হারাণ মিত্তির বলে উঠে। গ্রামের ...

অনুরাগীর চোখে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

      সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নামটার মধ্যে রয়েছে  বাঙালীর অসম্ভব আবেগ। বিশেষ করে সত্যজিৎ  রায়ের সিনেমা দেখতে যারা ভালবাসেন। তিনি যে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক। প্রথম জীবনে রানাঘাটে ওপরবর্তী জীবনে দক্ষিণ  কলকাতায় থাকা সত্বেও তাঁকে আমার চাক্ষুষ দেখার সুযোগ হয়নি। বয়সে উনি আমার পিতৃসম।      আমাদের ছোট বয়সে সিনেমা দেখা বলতে কখনো   ভাল ছোটদের বই সিনেমা হলে এলে দেখতে যাওয়া। সেইখানেই ছোট বয়েসে তাঁর কিছু সিনেমা দেখা। খুব ভাল লাগত। পরবর্তীকালে TV তে তাঁর বই দেখা। তিনি তো বেশিরভাগই আদর্শবান চরিত্রে অভিনয়  করতেন। প্রেমিকের ভূমিকায় অভিনয় করলেও সেখানেও তাঁর একটা আদর্শ থাকত।      আর আমার মনে হয় তাঁর চেহারায় একটা আদর্শের ছাপ ও সারল্য ছিল। এটাই বোধহয় তাঁকে ভাললাগার অন্যতম কারণ। তাঁর অভিনয় নিয়ে আমার বলার কোন প্রশ্নই আসে না। তাঁর প্রথম সিনেমা সত্যজিৎ রায়ের অপুর সংসার  ও পরে সমাপ্তি আমার মধ্যে অসন্ভব প্রভাব ফেলেছে। অপুর সংসার দেখলে তো ভীষন খারাপ লাগে। কিন্তু সমাপ্তিতে আছে অসম্ভব মজা। তাই সমাপ্তির সিনগুলো খুবই মাথার মধ্যে ঘোরে ও আলোচনা করি...

নক্ষত্রের নৈবেদ্য, জলসংক্রান্তির বারো পুকুর

 পুরোনো কলকাতার চেহারা তখনো পাকাপাকিভাবে গড়ে উঠেনি। কিন্তু তখনই কলকাতায় আগমন ঘটতে শুরু করেছে একদল মানুষের যারা সত্যি সত্যিই বন কেটে বসত শুরু করল। এদেরই এক জন  নন্দরাম সেন। দক্ষিন গঙ্গা থেকে শোভাবাজারে এসে উঠেছেন বটে নন্দরাম তবে তার আগেই তিনি শোভাবাজারের জমির পাট্টা নিয়ে রেখেছেন।কলকাতার বসতি তখনো তেমন জমে উঠেনি।     বাবু নন্দরাম সেন কলকাতা এসে যে ব্রত চালু করে ছিলেন তা যেমন ছিল চমকপ্রদ তেমনই অভিনব।  সেই ব্রত পালনের সময় সন্ধ্যাকাল। অভিনব সেই ব্রত পালন শুধুমাত্র ঘণ্টা নেড়েই শেষ হত না। তার আয়োজনের ঘটা ছিল খুব। কেমন ছিল সেই আয়োজনের বহর? ঠাকুর চাকর রেখে রোজ রাঁধা হত তার ভোগ পঞ্চাশ ব্যাজ্ঞন।  রোজ নতুন নতুন থালা বাসনের ব্যবস্হা করা হত এইসব পদ রাখার জন্যে। কিন্তু এত কান্ডের পর প্রশ্ন হচ্ছে এত রকমারি রান্না খাবার খাবে কে। কখনই বা সাজিয়ে দেওয়া হবে এই থালা সাজানো রান্না করা নানা পদ বিগ্রহের  সামনে। কিন্তু সেই বিগ্রহ কোথায়?   আছে আছে, তবে এ বিগ্রহ সাবেকি ধরনের আর পাঁচটা প্রচলিত বিগ্রহের মত নয়। এই বিগ্রহের দর্শন পেতে অপেক্ষা করতে হবে সূর্য অস্ত যাওয়া অবধি।...