সরস্বতী পুজো উপলক্ষে মনে পড়ে গেল ছেলেবেলায় রানাঘাট শহরের প্রাণ কেন্দ্র ছোটবাজার চৌমাথার মোড়ের একদিকে একটা খোলা জায়গা ছিল। যেখানে পরে বাড়ি হয়ে যায়। সেখানে বিশাল সুদৃশ্য হরতনের মধ্যে প্রায় দেড়তলা সমান সরস্বতী ঠাকুর বসানো থাকত। তলায় লেখা থাকত "গোমূর্খে ঠাকর"। লোক মুখে সেটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল গোমুখুর ঠাকুর। প্রচুর মানুষ আসতেন ঐ ঠাকুর দেখতে।
আর যারা এই গোমূর্খের ঠাকুরের উদ্যোক্তা রাস্তার অপর পাড়ে সুনীলবাবুর আইসক্রীম কলের সামনে খাটিয়া, বেঞ্চি পেতে বসতেন।
তারা সে সময়ে পাড়ার রক্ষাকর্তা ছিলেন। পাড়ায় পাড়ায় সেসময়ে রোজই মারামারি লেগেই নানা বিষয় নিয়ে থাকত। তাঁরা নেবে পড়তেন সাইকেলের চেন, বাঁশ, লাঠি, রড নিয়ে পাড়া ঠেকাতে। নেশাও করতেন তবে কোনদিন পথচলতি মেয়েদের বা পাড়ার মা বোনেদের অসন্মান করেননি। নেশাগ্রস্থ অবস্থায়ও তারা পাড়ার ছোট বড়দের কি চোখে দেখতেন তার একটা ছোট্ট পরিচয় দিই।
সেবার সরস্বতী পুজোর চাঁদা তুলতে সটকাট রাস্তায় এন জি রায়ের চ্যানাচুরের কারখানায় চাঁদা আনতে ব্রজবালা গার্লস স্কুলের পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি, তখন ওদিকে ঝোপঝাড় জঙ্গলে ঘেরা তারমধ্যে দেখি খানিকটা দূরে দূরে কয়েকজন করে গোল হয়ে বসে হাতে মাটীর ভাঁড়। পাশে বোতল রাখা।
এমনসময় হঠাৎ একটা ডাক এলো, ভাইপো এখানে কেন? তাকিয়ে দেখি গোমুখু ঠাকুরের কর্মকত্তা গুলে কাকা। আমাদের পাড়ার মুখার্জি পরিবারের ছেলে। আমি ভয়ে ভয়ে বলি, সরস্বতী পুজোর চাঁদা তুলতে যাচ্ছি।
ঘুরে যাও, এ রাস্তাটা ভাল নয়।
তাঁর কথায় ফিরে এসেছিলাম সেদিন। তাদের লেখাপড়া হয়নি তবে এই বোধটা ছিল, যে পুজোর সময় মদ খেয়ে হল্লা করা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজে বাজিয়ে উদ্দাম নৃত্য করাটা শোভন নয়। যেটা সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেল।
- সিদ্ধার্থ বসু
Comments
Post a Comment