Skip to main content

বিস্মৃত এক সঙ্গীত শিল্পী ও তাঁর এক গুণী শিষ্যার কথা।

    রানাঘাট শহরের উপকন্ঠে  বর্ধিষ্ণু ও প্রাচীন গ্রাম আনুলিয়া । সেই আনুলিয়া গ্রামে ছিল ডাঃ শৈলেন্দ্র নাথ চট্টোপাধ্যায়ের আদি নিবাস।  শৈলেন্দ্রনাথ  চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সুলতা চট্টোপাধ্যায়ের  ছেলেমেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল মেয়ে সন্ধ্যা (তারা) চট্টোপাধ্যায়। বিবাহের পর তাঁর পদবী হয় বন্দোপাধ্যায়। তাঁর ডাক নাম ছিল বাদাম। লক্ষ্ণৌ নিবাসী তারা বন্দোপাধ্যায় সুগায়িকা ছিলে্ন।  ১৯২১ সালের ২রা অক্টোবর  বড় ছেলে শিবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয়।বাল্যকালে মা ও বড়দিদির কাছেই তার সঙ্গীতের হাতে খড়ি। তাঁর ছোট বোন ডাঃ অজ্ঞলি মুখোপাধ্যায় একাধারে প্রথিত যশা ডাক্তার ও নজরুল গীতির অসামান্য শিল্পী ছিলেন।তিনি আঙ্গুরবালা দেবী ও ইন্দুবালা দেবীর কাছে তালিম নেন। তাঁর মেয়ে ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ও সুগায়িকা। তাঁর আগেও দুই বোন ছিল।

    ভাই সুনীত চট্টোপাধ্যায় যাঁর ডাক নাম ছিল মান্তান। তিনি সারা জীবন প্রবাদ প্রতিম গায়ক ও সঙ্গীতপরিচালক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সহযোগী তবলা বাদক ছিলেন। তিনি হেমন্তবাবু মারা যাওয়ার পর রানাঘাটে থাকতেন। রানাঘাট চৌরঙ্গীর মোড়ে তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে তাঁকে আমি জিজ্ঞেস্ করেছিলাম, এখন কার সঙ্গে বাজাবেন? উনি গভীর শ্বাস ছেড়ে বলেছিলেন, হেমন্তদাই নেই,এরপর আর কার সঙ্গে বাজাবো?এর কিছুদিন পরেই তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। ছোট ভাই সুনীল চট্টোপাধ্যায়। যিনি সবার কাছে পিন্টু নামে পরিচিত। তিনি তবলা বাদক। অসাধারণ হাত।

    সঙ্গীত শাস্ত্রী শিবকুমার চট্টোপাধ্যায়


      রানাঘাট সুভাষ এ্ভিনিউ এর  সলিল ডাক্তারের চেম্বার যেখানে ছিল ঠিক তার উল্টেদিকে ছিল ডাঃ শৈলেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। এখন যেখানে তবলা বাদক পিণ্টুদার বাড়ি সেটা তখন ফাঁকা জায়গা ছিল।ওখানে ঘোড়ার গাড়ি দাঁড়াত। তারপর পাঁচিল ঘেরা পৈত্রিক বাড়িতে থাকতেন সঙ্গীতশাস্ত্রী শিবকুমার চট্টোপাধ্যায়। যিনি ‘গুলিনদা’ বলেই সর্বত্র পরিচিত ছিলেন। পাঁচীল ঘেরা বাগানে ছিল একটা বড় বাতাবি লেবুর গাছ। সেই বাগানের উল্টো দিকে ছিল টানা বারান্দা। এই বারান্দায় উঠেই ছিল বাঁ হাতে শিবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গান শেখানোর ঘর। বড় একটা চৌকিতে সতরঞ্চির উপর সাদা ফরাস পাতা থাকত। আর থাকত গুলিনদার স্কেল চেনজিং হারমোনিয়ম,ডুগি তবলা,। তানপুরা থাকত কোনায়। যখন গান গাইতে বসতেন তখন সামনে থাকত পানদানি। গানের সময় তাল দিতে গিয়ে অনেক সময়ই তবলচির উরু তার শিকার হত। এ অভিজ্ঞতা  উপেন চন্দ ও তার ভাই বুড়ো বাবুর হয়েছে বারবার। মাঝেমাঝেই উপেন বাবু হারমোনিয়ম ধরতেন গুলিনদার গানে। এ অসামান্য গানের মজলিশী দৃশ্যের অভিজ্ঞতা যিনি চাক্ষুস করেননি তিনি ঠিক উপলব্ধি করতে পারবেন না। 

   সঙ্গীতশাস্ত্রী শিবকুমার চট্টোপাযায় তাঁর কর্তাদাদু নগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের কাছে সামান্য কিছুদিন সঙ্গীত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন। রানাঘাট পালচৌধুরী স্কুলে পড়ার সময়েই তাঁর সঙ্গীত জীবনের তাঁর কর্তাদাদু নগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের প্রধান শিষ্য নগেন্দ্রনাথ দত্ত মহাশয়ের কাছে। অল্প বয়েসে তিনি কর্তাদাদুকে হারানোয় তাঁর কাছে সেরকম তালিম নিতে পারেননি।কিন্তু তাঁর সুযোগ্য শিষ্য নগেন্দ্রনাথ দত্তর কাছে থেকে মার্গ সঙ্গীতের শিক্ষায় কোন খামতি ছিল না। অচিরেই শিষ্যের প্রতিভার যাদুতে গুরুর তালিমে রাগরাগিনী এক উচ্চ মার্গে পৌঁছোয়্। শিবকুমারের কর্তাদাদু নগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের আমলে রানাঘাটের গান বাজনার উৎকর্ষ এতটাই ঘটেছিল যে রানাঘাট “ছোট দিল্লি” বলে পরিচিত ছিল সংঙ্গীত মহলে। সেই আবহাওয়া তাঁর শিষ্যরাও ধরে রেখে ছিলেন। সঙ্গীতের এই পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা শিবকুমার চট্টোপাধ্যায় যখন কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজের ছাত্র তখন ইনটার কলেজ মিউজিক কম্পিটিশনে খেয়াল,টপ্পা,ঠুংরী,ভজন প্রভৃতি গানের সমস্ত শাখায় সর্ববিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। সর্বভারতীয় সঙ্গীত সন্মেলনে কলকাতায় তিনি যোগদিয়ে ভূয়সী প্রসংসা অর্জন করেন ও ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁ সাহেবের প্রশংসা ও আশীর্বাদ ধন্য হয়েছিলেন। এরপর শিবকুমার  চট্টোপাধ্যায়কে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। শুরু হয় তাঁর শাস্তীয় সঙ্গীত জগতে  তানসেন, সদারঙ্গ সঙ্গীত সন্মেলন, ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স থেকে অল ইন্ডিয়া মিউজিক কনফারেন্স সর্বত্র খেয়াল, টপ্পা, ভজন প্রভৃতি গেয়ে শ্রোতা মন্ডলীর হৃদয় জয় করেন। 

    গুরু নগেন্দ্রনাথ দত্ত প্রয়াত হওয়ার পর তিনি মুর্শিদাবাদে নবাবের সভাগায়ক ওস্তাদ কাদের বক্স সাহেবের শিষ্যত্ব গ্রহন করে। তাঁর তত্বাবধানেই ভারতীয় দূস্প্রাপ্য রাগ রাগিনীর তালিম গ্রহন করেন। শিষ্যের সঙ্গীত প্রতিভার ভূয়ষি প্রশংসা করে ছিলেন গুরু রানাঘাটে এক সঙ্গীত আসরে। তাঁর সঙ্গীত জীবনে  বিমল রায়ের ভূমিকাও স্মরণীয়।তাঁর খেয়াল,টপ্পা,টুমরী,ভজন,আগমনী গান থেকে শ্যামাসঙ্গীত সর্বক্ষেত্রে তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। পুরাতনী গানের ভান্ডার ছিল প্রচুর। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য পন্ডিত রবিশঙ্কর শোভাবাজার রাজবাড়ি থেকে সেকালের বাবু কলকাতা নিয়ে যে অনুষ্ঠান করেছিলেন তার উদ্বোধনী সঙ্গীত গাওয়ার কথা রামকুমার চট্টোপাধ্যায় এর ছিল। কিন্তু তিনিই গুলিনদার নাম প্রস্তাব করেন এবং বলেন, ওর পুরাতনী গানের সংগ্রহ প্রচুর। ঐ প্রথম গাইবে। গুণী এই শিল্পী নজর এড়ায়নি বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়, তরুন মজুমদার, দের। তাদের পরিচালিত সিনেমায় প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘চারুলতা’ ছবিতে টাইটেল সঙ তাঁর গাওয়া। তিনি তরুন মজুমদার পরিচালিত ছবি ‘অমরগীতি’ তে অনবদ্য একটি পাজ্ঞাবী টপ্পা পরিবেশন করেন। তিনি প্রয়াগ সমিতির স্বর্ণপদক পান্। m.music (prayag) । প্রয়াগ সমিতি পরীক্ষক,পশ্চিমবঙ্গ শাখার Rapporter। কলকাতা বেতার ও দূরদর্শন এর প্রথম শ্রেণীর শিল্পী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে দূর্গাপুজো অষ্টমীর দিন দেবেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ির দূর্গা পুজোর থেকে নিজের বাড়ি ঢোকার সময় আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আজকাল রেডিওতে আপনার গান শুনি না। দূরদর্শনেও আগমনি গান শোনা যায় না কেন? 

   উনি একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেছিলেন, কি করে শুনবি রেডিও ষ্টেশনে আমার সমস্ত রেকর্ড নষ্ট করে দিয়েছে। এখন বলছে নতুন করে অডিশন দিতে। আমি যে এ গ্রেড আর্টিষ্ট তার প্রমাণ দিতে হবে। এর কিছুদিন পর তিনি দেহ রাখেন। রেডিওয় একসময় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান হতো বোধহয় বেলা এগারোটার সময়ে,পরিচালনা করতেন বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়। আমি তাঁকে শিবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গান শোনাতে বলি। তিনি তা পারেননি। আমি জানতাম তিনি পারবেন না কারণ তাঁর সমস্ত গান তখন নষ্ট করা হয়ে গেছে। সঙ্গীত জগতে এ নোংরামি নতুন কিছু নয়। এর ফলে বহু গুণি শিল্পীই হারিয়ে যান। তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সরোজদত্ত, চিত্রা বসু, রেখা সরকার, সোমেশ ঘোষাল, সিরাজুল ইসলাম,সঙ্গীতা বসু, শিল্পী কুন্ডু পরবর্তী কালে আরো অনেকে এসেছিলেন। কলকাতায়ও তাঁর গানের ক্লাস ছিল। সূর্য সেন ষ্ট্রীটে ফেবারিট কেবিনের উল্টোদিকের কলকাতা করপোরেশন বিল্ডিং এর পাশের রাস্তা দিয়ে ঢুকে ডান হাতে একটা পুরনো বাড়িতে।

   এ প্রসঙ্গে বলি রানাঘাটে মেয়েদের গানের প্রতি আকষর্ণ ও তাদের গান শিখতে আগ্রহী করে তুলেছিলেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুই বোন কমলা ঘোষ ও ইরা ঘোষ। তাদর অবদান স্বীকার না করলে রানাঘাটের সঙ্গীত চর্চা অসম্পুন থেকে যাবে। এই সঙ্গে স্মরণ করি সেইসব কঠিন দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে যাঁরা দিনের পর দিন তবলা সঙ্গত করতেন। এদের মধ্যে সর্বশ্রী দুলাল ঘোঘ,বিষ্টুবসু লেনে বাড়ি ছিল।সাইকেল নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তবলা সঙৃগত করতেন। সৌরনদা ভাঙ্গরাপাড়ায় বাড়ি ছিল। যিনি পরে পন্ডিত রবিশঙ্করের গ্রুপে যোগ দেন। এছাড়া উপেনদার ভাই বুড়োদা, ভোলানাথ ঘোষ দক্ষিণপাড়ায় বাড়ি।সবার কাছে (ভোলা) বলেই তাঁর পরিচিতি ছিল।

   তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একমাত্র আমার দিদি চিত্রা বসু (ঘোষ) গুরুর মত তানসেন সঙ্গীত সন্মেলনে, সদারঙ্গ সঙ্গীত সন্মেলন,ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্সন সহ একাধিক প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত সন্মেলনে সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন। তানসেন সঙ্গীত সন্মেলনে এক আসরে ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁ, গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, এর মত শিল্পীদের সঙ্গে এক আসনে গান গেয়েছিলেন। আর সেদিন সেতার বাজিয়েছিলেন নিখিল বন্দোপাধ্যায়। দিদি গেয়ে ছিলেন খেয়াল। 

সঙ্গীত শাস্ত্রী শিবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সুযোগ্য ছাত্রী চিত্রা বসু তানসেন সঙ্গীত সন্মেলনের কাপ নিয়ে। সর্ব বিষয়ে প্রথম হওয়ার জন্য। আমার দিদি।


    দিদি গুলিনদার কাছে নাড়া বেঁধে গান শিখেছিল। সে ছবি রানাঘাট বাড়িতে ছিল। তাই শিবকুমার চট্টোপাধ্যায় শিষ্যত্ব ত্যাগ করে আমার কাছে নাম লেখালেই রেডিওয়তে গান গাইতে পারবে এ প্রস্তাব যখন আসে সেই তানসেন সঙ্গীতের আসরে মহাজাতি সদনের কড়িডোরে গুলিনদার সামনেই। দিদি ও আমার ছোটকাকা পান্নালাল বসু ততক্ষণাৎ ঐ প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন। ঐ প্রস্তাব এসেছিল তৎকালীন গানের জগতের বিখ্যাত এক ব্যক্তির কাছ থেকে। তাই দিদির রেডিওতে আর গান গাওয়া হয়নি। গানের জগতে তখন এরাই দন্ডমুন্ডে কর্তা ছিলেন। প্রয়াগ সঙ্গীত সমিতি থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ডিসটিংশন নিয়ে উত্তীর্ন হয়।

৮ই অক্টোবর ১৯৬৬ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা।
        
      
    রানঘাট কলেজে পড়াকালীন তিনি তিনবার inter college music competition এ অংশ নিয়ে প্রতিটি বিষয়ে প্রতিবার সাফল্য অর্জন করে সর্বশ্রী অনাথ বসু, (শ্যামল বসুর বাবা), শৈলেন চ্যাটার্জী (মীরা বন্দোপাধ্যায়ের বাবা) টি. এল রাণার মত গুণীজনের আশীর্বাদ ধন্য হয়েছিল। একবার ইউনিভারসিটি ইনস্টিটিউট (কলেজ ষ্ট্রীট) হলে গান শেষ হতে কয়েক মূহুর্ত আগে বিচারকের আসনে বসা একজন নামী ব্যক্তি বেল বাজিয়ে দেন। ফলে গানটা শেষ হয় না। এ ঘটনায় উপস্থিত এ. টি. কানন ও মালবিকা কানন তীব্র প্রতিবাদ করেন। দিদিকে আবার গাইতে অনুরোধ করেন। ফলে সর্ববিষয়ে প্রথম হয়েও চাম্পিয়ান ট্রফি লাভ করতে পারেনি। 

             দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা

   গুরুর মত দিদিও তানসেন থেকে সদারঙ্গ সঙ্গীত সন্মেলনে গান করে সবার কাছে উচ্চপ্রশংসা লাভ করে। এছাড়াও পাথুরিয়াঘাটার রাজবাড়ি থেকে সুরসাগর হিমাংশু দত্ত সন্মেলনেও অংশ গ্রহণ করে। দিদি ঠুমরীর তালিম নেয় বিভূতি দত্ত মহাশয়ের কাছে। আর কীর্তনের তালিম নেয় ছবি বন্দোপাধ্যায়ের কাছ থেকে।     ১৯৭০ সালের প্রথমদিকে মাদ্রাজের রামেশ্বরমের সমুদ্র তীরে মহনানন্দ ব্রক্ষ্মচারী  এক পূর্ণিমা রাতে তাঁর গলায় কীর্তণ শুনে মুগ্ধ হন। পরদিন রামেশ্বরম মন্দিরে শত শত তাঁর ভক্ত সমাবেশের মধ্যে তিনি দিদির হাতে তাঁর গলার মালা খুলে হাতে দেন আর এই অর্বাচীনের গলায় তাঁর গলা থেকে মালা খুলে তা পড়িয়ে দেন। 

  দিল্লিতে থাকাকালীন শুভ্রা মুখোপাধ্যায় ( প্রণব মুখোপা্ধ্যায়ের স্তী )  ও নেতাজীর ভাইজি লতিকা বসুর কাছ থেকেও গানের জন্য ডাক আসে। দুবাইতে থাকাকালীন গানের শিক্ষিকা হিসেবে দুবাই গোল্ডেন মিউজিক স্কুল সহ আর কয়েকটি গানের স্কুলে গান শেখাত। এছাড়াও স্কুল টীচার ছিল। দুবাই বেঙ্গলী এ্যাসোশিয়েসনে  ডাকে বহুবার গান গেয়েছে। ওর এক ছাত্রী সা রে গা মা পা অনুষ্টানে গান গেয়ে দ্বিতীয়স্থান অধিকার করে।


- সিদ্ধার্থ বসু

Comments

Popular posts from this blog

উজ্জ্বল উদ্ধার — প্রাচীন বাংলার গান ও কবিতা

      প্রাচীন বাংলার কবিতা ও গানে সেইসময়ের সমাজ জীবনের নানান দিক ধরা পড়ে। যেখানে সেইসময়ে মেয়েদের জীবনে বিয়েকে ঘিরে যে চিত্র উঠে আাসে তা আজকের মতোই বিষাদময়। পণপ্রথার শিকার সেদিনের কণ্যাদায়গ্রস্থ পিতার। একটা অসম্পূর্ন কবিতায় এই ছবি ধরা পড়ে।          বাড়ীর পিছে ডালম  গাছে একটি ডালম ধরে।                 একটি ডালম ছিঁড়ি রাজা কণ্যাদান করে।।         কণ্যাদাণ করি রাজা ফোঁপাই ফোঁপাই কাঁদে।          বড় ভাইরে কাঁদন করে দোলার ঝলির খুন্তা ধরি।।                ছোট ভইনে কাঁদন করে খেলার ঘরে বসি।।         আমার দিদি কনে নিল খেলা ভঙ্গ করি।        বড় ভইজে কাঁদন করে পাক ঘরেতে বসি।।   কণ্যাদান প্রথার থেকে রেহাই মেলে না রাজারও। সামান্য ডালিম দিয়েও তাকে কণ্যার বিয়ে দিতে হয়। ঘৃণ্য পণ প্রথা যে প্রাচীনকালেও অব্যাহত ছিল তা ধরা পড়ে এই কবিতায়।      এই প্রস...