Skip to main content

আমার সমরেশ দর্শন

     সালটা আশির দশক।  কলকাতার কড়েয়া এলাকায় একটা বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে ভিসুয়ালাইজার হিসেবে কাজ করি। একদিন শুনলাম, এখানেই কাছেই  লেখক সমরেশ বসু থাকেন। ঠিকানাটা ছিল বারো নম্বর সার্কাস রেঞ্জ রোড। আমার প্রিয় লেখক যার ছোটগল্প, উপন্যাস কোন কাল থেকে পড়ছি। 

     তিনি কাছেই থাকেন আর আমি দেখব না তাঁকে? তা কি হয়। তখন তিনি মহানগর পত্রিকার সম্পাদনা করেন। একদিন অফিসে টিফিনের সময় বেড়িয়ে পড়লাম বারো নম্বর সার্কাস এর উদ্দেশ্যে। আমি হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে অবশেষে হাজির হলাম বারো নম্বর বাড়ির সামনে। খোলা দরজা দিয়ে  ঢুকে পড়লাম ভেতরে। সামনেই ওপরে উঠার সিঁড়ি। সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই সামনের দরজার গায়ে প্নেস্টিক অক্ষরে নেম প্লেটে লেখা সমরেশ বসু।  

      আর বাঁদিকের দরজায় লেখা একজন ইজ্ঞিনিয়ার ভদ্রলোকের নাম। তাঁর নামের নিচে বিশাল ডিগ্রির তালিকা।  যাক ওসব কথা, দিলাম সমরেশ  বসুর দরজায় কড়া নেড়ে। খানিক পরে দরজা খুলে সামনে এসে দাঁড়াল একটি বাচ্চা ছেলে। ছেলেটি আমায় বলল, কি নাম বলব?

    আমি বললাম, বলো, বুদ্ধদেব বসু এসেছেন। কথাটা শুনে ছেলেটি বলার আগেই দেখি স্বয়ং তিনি পাজ্ঞাবীর হাতায় হাত গলাতে গলাতে পাশের দরজা দিয়ে মুখ বার করে আমায় বলছেন, আসুন, আসুন বুদ্ধদেব বাবু।

   আমার তখন কী যে অবস্থা কি  বলি। 

উনি মিটিমিটি হেসে বললেন, বসুন। 

ততক্ষণে আমার ওঁকে দেখার অদ্ভুত মুগ্ধতা কেটে তাকিয়ে দেখলাম বাঁ হাতে বড় সোফা রয়েছে। ঠিক তার উল্টেদিকে দরজা। ওটাই ওঁর লেখার ঘর। পরে জেনে ছিলাম। 

 তিনি বললেন, বসুন। 

 আমি এগিয়ে গিয়ে সোফায় বসলাম। তিনি আগেই বসেছেন। আমায় বললেন বলুন,। 

আমি আকাশ পাতাল ভাবছি কি বলব?  

তারপর পর হঠাৎ বলে উঠলাম, আৃমি মহানগর পত্রিকায় লিখব। 

কোন বিভাগে লিখবেন? 

তৃতীয় নয়ন, থার্ড আইতে লিখব। 

বেশ, কিন্তু কি লিখবেন? 

চট জলদি আমার মুখ থেকে বেড়িয়ে গেল,অন্য কলেজ ষ্ট্রীট। তারমানে! তিনি প্রশ্ন করলেন। 

আমি বলে উঠলাম কলেজ ষ্ট্রীট শুধু বই পাড়া নয়। তার অন্য ইতিহাস আছে। অন্য ধরণের ব্যবসাও আছে। 

আমার কথা শুনে তিনি বললেন, বেশ,সাতদিনের মধ্যে লেখাটা দিন। 

প্রথম পর্ব।

Comments

Popular posts from this blog

উজ্জ্বল উদ্ধার — প্রাচীন বাংলার গান ও কবিতা

      প্রাচীন বাংলার কবিতা ও গানে সেইসময়ের সমাজ জীবনের নানান দিক ধরা পড়ে। যেখানে সেইসময়ে মেয়েদের জীবনে বিয়েকে ঘিরে যে চিত্র উঠে আাসে তা আজকের মতোই বিষাদময়। পণপ্রথার শিকার সেদিনের কণ্যাদায়গ্রস্থ পিতার। একটা অসম্পূর্ন কবিতায় এই ছবি ধরা পড়ে।          বাড়ীর পিছে ডালম  গাছে একটি ডালম ধরে।                 একটি ডালম ছিঁড়ি রাজা কণ্যাদান করে।।         কণ্যাদাণ করি রাজা ফোঁপাই ফোঁপাই কাঁদে।          বড় ভাইরে কাঁদন করে দোলার ঝলির খুন্তা ধরি।।                ছোট ভইনে কাঁদন করে খেলার ঘরে বসি।।         আমার দিদি কনে নিল খেলা ভঙ্গ করি।        বড় ভইজে কাঁদন করে পাক ঘরেতে বসি।।   কণ্যাদান প্রথার থেকে রেহাই মেলে না রাজারও। সামান্য ডালিম দিয়েও তাকে কণ্যার বিয়ে দিতে হয়। ঘৃণ্য পণ প্রথা যে প্রাচীনকালেও অব্যাহত ছিল তা ধরা পড়ে এই কবিতায়।      এই প্রস...