Skip to main content

Posts

Showing posts from November, 2020

বাঙালির সাহেব পুজো

        বাঙালিদের সাহেব প্রীতির বহু গালগল্প ঠাট্টা তামাসা আছে।  হুতোম এর নকশা থেকে নাটক,  প্রহসন ও কবিগানে ছড়িয়ে আছে এই সাহেব প্রীতির নানান ছবি। এই সাহেব প্রীতির কারণে একদল মানষের জীবন পাল্টে গিয়েছিল। জুটেছিল খেতাব ও নানান পুরস্কার। পাশাপাশি চলেছিল ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ। চারিদিকে যখন চলছিল ইংরজ শাসনের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনের জোয়ার, তখন আর ঞকদল ব্যস্ত ছিল ইংরেজ তোষণে্।         সাহেব প্রীতির অন্যতম নজিরের ছবি শ্রীমান পৃথ্বীরাজ কাহিনীতে। রায়বাহাদুর খেতাব পাওয়ার জন্য নির্লজ্জ চাটুকারীতায় অন্যতম বাঙালী মধ্যবিত্ত চরিত্র। এই ইংরেজ তোষণকারী খেতাবধারীরা বিপ্লবীদের ধরিয়ে দিয়ে পুরস্কার লাভ করত। অর্থমূল্যের পাশাপাশি তারা ইংরেজ ঘনিষ্ঠ হয়ে তাদের আয়োজিত বিনোদনের আসর থেকে সভাসমিতিতে ডাক পেত।       এই চাটুকারিতার জম্য তারা যে ইংরেজি ভাষা শেখার চেষ্টা চালাত তা নিয়ে মজার ও হাসির খোরাক হয়ে থেকে যেত গানে গল্পে কবিতায়।  এইরকম একটি সঙের গান,         হলো ঘোর কলি কারে কি বলি।  সমাজ দিয়ে ছাড়ে  খা...

উজ্জ্বল উদ্ধার — প্রাচীন বাংলার গান ও কবিতা

      প্রাচীন বাংলার কবিতা ও গানে সেইসময়ের সমাজ জীবনের নানান দিক ধরা পড়ে। যেখানে সেইসময়ে মেয়েদের জীবনে বিয়েকে ঘিরে যে চিত্র উঠে আাসে তা আজকের মতোই বিষাদময়। পণপ্রথার শিকার সেদিনের কণ্যাদায়গ্রস্থ পিতার। একটা অসম্পূর্ন কবিতায় এই ছবি ধরা পড়ে।          বাড়ীর পিছে ডালম  গাছে একটি ডালম ধরে।                 একটি ডালম ছিঁড়ি রাজা কণ্যাদান করে।।         কণ্যাদাণ করি রাজা ফোঁপাই ফোঁপাই কাঁদে।          বড় ভাইরে কাঁদন করে দোলার ঝলির খুন্তা ধরি।।                ছোট ভইনে কাঁদন করে খেলার ঘরে বসি।।         আমার দিদি কনে নিল খেলা ভঙ্গ করি।        বড় ভইজে কাঁদন করে পাক ঘরেতে বসি।।   কণ্যাদান প্রথার থেকে রেহাই মেলে না রাজারও। সামান্য ডালিম দিয়েও তাকে কণ্যার বিয়ে দিতে হয়। ঘৃণ্য পণ প্রথা যে প্রাচীনকালেও অব্যাহত ছিল তা ধরা পড়ে এই কবিতায়।      এই প্রস...

নচেৎ আপনি.....

      এটা বেশ ভালো ব্যবস্থা এক এক সরকার আসবে তাদের স্বরূপ জনগণ আগে বুঝতে পারবে না।  কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্ব শক্তিমান জনগণের ইচ্ছের প্রকাশ ঘটে নাকি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। নির্বাচনের আগে তাদের নানা ভাবে প্রলুব্ধ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক  দল।  তাদের সেইসব ভালো ভালো কথায় ভুলে এবং এরা এলে সত্যিই নতুন কিছু হবে ভেবে মানুষ ভোট দেয়। এর মধ্যেও প্রশ্ন থেকে যায়, যদি অবশ্য প্রকৃত অর্থে ভোট হয়? নির্বাচনের মাধ্যমে কি সত্যি সত্যিই কি জনমত প্রকৃত অর্থে প্রতিফলিত হয়? এ প্রশ্ন থেকে যায় না কি?-       প্রশ্নটা সেখানে নয়,  প্রশ্নটা হচ্ছে যে নির্বাচনই   হোক না কেন,  সে পঞ্চায়েত হোক, পৌরসভা হোক, বিধানসভা, লোকসভা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই শাসক ও বিরোধী পক্ষ সকলেই জনগণের  সেবা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তাদের কথা বিশ্বাস করে এবং ভোট দেয় জনগণ তাদের মনোমত দলের প্রার্থীকে। তারপর যদি সেই দল নির্বাচনে জেতে এবং ঘোড়া কেনাবেচার খেলা পেরিয়ে ক্ষমতাসীন হয় তখন সেই দলের একের পর এক জনবিরোধী কাজের ফলে অচিরই জনগণের মোহ ভঙ্গ হয়। এবং ক্রমশ তারা বুঝে পারে যে দল...

কৃষকদের জীবন কি সত্যিই বদলাবে?

      ভারতবর্ষের  কৃষকরা বারবার তাদের ওপর অন্যায়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ থেকে বিদ্রোহে সামিল হয়েছে। বারবার তাদের প্রলোভনের শিকার হতে হয়েছে। এই প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে তাদের কি করুণ অবস্থা হয়েছে তার ছবি মেলে বাংলার লোককবির কথায়। লোককবি  আবেদ আলী মিয়া কৃষকদের এই লোভের পরিণতির কথা ভেবে বলেছিলেন, “কৃষকরা চাউল ত্যাগ করে লাভের আশায় পাটের ঝুঁকি নিয়েছিল, তাদের এমন একদিন আসবে যখন তাদের সেই পাটগাছের কাঠি খেতে হবে।“ তিনি গান বেঁধেছিলেন,                 বুঝলি না তুই বুড়ার বেটা, আবেদের নয়কো ঝুটা                খেতে হবে পাটের গোড়া ঠিক জানিস মোর ভাষা                  মনে করেছো নিব টাকা                  যে আশা তোর যাবে ফাঁকা                   পঁচিশের পয়া হবে তোর, ঋণে পড়বি ঠাসা                ...

হাঁটতে হাঁটতে

       সব ঠিকঠাক থাকলে এবার নতুন কাজ। কাজের কথা মনে হতেই কেমন যেন সব গোলমাল হয়ে যায় খোকনের। কাজ তো ছিল একটা তা সে ছোট হোক বা বড় হোক। তা দিয়ে সংসারটা গড়িয়ে গড়িয়ে চলছিল। খুব একটা আহামরি না হোক। কিম্তু এখন তাও যে চলতে চায় না। চলবেই বা কি করে বলো, বাজারের যা অবস্থা।       একা থাকলেই সারাক্ষণ এই সব ভাবনা তাড়া করে বেড়ায় তাকে। আজকাল কিছুই যেন ভালো লাগে না। সব কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। ছেলেটা ভিন রাজ্যে পড়ে আছে। কোনো কিছু করতেই যেন ইচ্ছে করে না তার কারণ  কাউকে কাজের কথা বললেই শুনবে সে, যা চলছে চারদিকে। এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে সময় কোথা দিয়ে যেন বয়ে যায়। আচমকা মিনতির ডাকে চমক ভাঙে। মিনতি তখনও চিৎকার করে চলেছে, বলি, বাজার যেতে হবে তো। বসে বসে কাল কাটালি চলবে?  --কাল কাটাচ্ছি না। ভাবছি।   -- বসে বসে ভাবলে চলবে। বাজার যাও। নিজির তো কাজ কম্মো নাই। ছেলেটা কটা টাকা পাঠায় তাতে চলছে। বলতে বলতে মিনতি ঘরের কাজে মন দেয়।      ঘর বলতে এক চিলতে ছ্যাঁচার বেড়ার উপর টিনের ছাউনি। তাও গেল ঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে গেল। সাহায্যের জন্য পঞ্চায়েতে ঘোরাঘু...